প্রকাশিত: Tue, Apr 25, 2023 3:10 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:21 AM

ভারত ও চীনে তরুণদের যান্ত্রিক জীবন: ঘর বাধার সময় নেই

জ্জাদুল ইসলাম:  জীবনের সর্বোত্তম সময় হলো যৌবনকাল। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দু’দেশ ভারত ও চীনের যুবকরা টাকার চিন্তায় অস্থির। কঠোর পরিশ্রমে দিন পার করে তারা। ২৫ বছর বয়সে পদার্পণ করেও তারা ঘর বাধার কোন চিন্তা করতে পারে না। আল-জাজিরা

এমন দু’জনের কথা এ নিবন্ধে উঠে এসেছে যাদের বয়স ২৫ বছর। প্রেমিকের সন্ধান করার মতো কোন সময় নেই। তারা জীবিকা নির্বাহে অবিরত সংগ্রাম করছে। এটি তাদের জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ভারত চীনকে ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচাইতে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে। উভয় দেশ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। চীনের বিপর্যয়কর এক সন্তান নীতির কুফল ভোগ করতে হচ্ছে। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রবীণে পরিণত হয়েছে। আর ভারতে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে প্রবৃদ্ধির ব্যাপক বৈষম্যের মধ্যে তরুণদেরকে কিভাবে সঠিক পন্থায় কাজে লাগানো যায়।

আল-জাজিরা দু’দেশের ২৫ বছরের দু’যুবকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছিল তাদের জীবন ও আশা-আকাঙ্খা নিয়ে। যা নীচে তুলে ধরা হলো।

শুয়ে পেংগাউ: ‘নিজের জন্য ব্যয় করার মতো সময় আমার নেই’। চীনের তিয়াজিনের যুবক শুয়ে পেংগাউ (২৫)। নিজ ছোট্ট শহর এনিয়াংয়ের একটি আর্ট কলেজের সহকারী শিক্ষক। উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্য কবলিত হেনান প্রদেশের শহরের কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সঙ্গে তিনি থাকেন। তার ছাত্ররা তার চেয়ে খুব বেশি তরুণ নয়।

৭ বছর আগে হাইস্কুল ছাড়েন পেংগাউ। তিনি বেইজংয়ের উপকন্ঠের তানজিন চলে যান। লক্ষ্য গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর লেখাপড়া করা। তিয়ানজিনের জনসংখ্যা এনিয়াংএর দ্বিগুণের বেশি। গ্রাজুয়েশন করার পর তিনি সেখানে এক স্কুলে চাকরি নেন। তিনি সেখানে বাস করা বা অন্য বড় শহরে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারি তাকে নিজ শহরে ফিরতে বাধ্য করে। তিনি যে অবস্থায় বাস করেন এরপর পৃষ্ঠা ৭, সারি 

(শেষ পৃষ্ঠার পর) তাতে তার পক্ষে বউ বা বান্ধবী পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। পেংগাউ বলেন, ‘মুলত খাওয়া ও ঘুমানো ছাড়া আমার হাতে আর কোন সময় নেই।’ এনিয়াং শহরটির বেশ সস্তা। তিনি ৩০০০ ইউয়ান (৩৪৯.৭৮ পাউন্ড) বেতন পান। তার চলার জন্য এটি যথেষ্ট ছিল। তবে এ আয়ে পরিবার নিয়ে চলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আরো তিন বছর পর্যন্তু এভাবে থাকতে চান তিনি।

পেংগাউ বলেন, তার যেসব বন্ধু গুয়াংঝু, শেনঝেন বা সাংহাই গেছেন তাদের অবস্থাও ভাল না। তারাও তার মতো বেতন পান। বিয়ে করে ঘর বাধার ক্ষমতা তাদেরও নেই। এখন সন্তানের কথা ভাবছি। কিন্তু হবে বড় বোঝা।

রঞ্জণ কুমার (২৫),ঝাড়খন্ড: চাচী তাকে মেধাবী বালক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর তার জীবনের বড় পরিবর্তন আসে। তার গ্রাম রেইনতোলিতে। কোন ধরনের সুযোগ ছিল না লেখাপড়া করার জন্য। এক চালের একটি ঘর ছিল। বাবা ছিলেন বেকার। মা লেখাপড়া জানতেন না। ৬ বছর বয়সে রাঁচিতে খালার বাড়িতে চলে যায়। লেখাপড়ার পর একবছর একটি অড জব করার পর নৃত্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েন তিনি। নৃত্য ক্লাসে যোগদান করেন। তিনি বলেন, ‘নৃত্যের সময় আমি নিজেকে স্বাধীন ও প্রাণবন্ত মনে করি। নৃত্য হলো আমার জীবন ও ভালবাসা।’

রঞ্জন কুমারের চোখ এখন বলিউডের দিকে। নৃত্যের ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা অর্জন করতে চান। এজন্য দরকার প্রতি মাসে ৫০০ পাউন্ড যা তার সাধ্যের বাইরে।

এখন তার মাসিক আয় ১৬০০ রুপি(১৬০ পাউন্ড)। তিনি বলেন, আমি বিয়ে করতে চাই কিন্তু তার আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সম্পাদনা: ইমরুল শাহেদ